সোনাটা যখন পাকসেনার সমর্থ সোনা, তখন সিনেমার মত বিশাল কর্মযঞ্জ ও জায়েজ হয়া যায়। আমরা হাভাতে বাঙ্গালী সোনার চামচ মুখে জন্মাই নাই তো কী হইছে , মুখে ললিপপ গুজে ঠিক দৌড়াই নাইট শো দেখতে। হাউজফুল শোর টিকেট না পাইয়া আফচুচ করি। কেউ কেউ যুদ্ধ (খবরদার মুক্তিযুদ্ধ না কিন্তু) ও ভালবাসার (mtv দেইখা আমরাও শিখছি কিন্তু, কনডম ছাড়া ভালবাসা? কাভি নেহি) গল্প দেইখা বাড়ি ফেরে। অতঃপর সকলে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে।
কিন্তু আমার মতো আবাল কেউ কেউ সুখী হইতে পারে না বরং উল্টা পাল্টা ভাইবা বসে। ভাবে ইন্ডিয়া পাকিস্থানের মধ্যে প্রেম নিয়া বলিউডি রোমান্টিক সিনেমার ঘোর আমাদেরও হানা দেয় বুঝি। আমরাও এমন সিনেমা বানাইবার কথা ভাবি। বিরঙ্গনার গল্পরে গোলাপী মোড়কে হাজির করি আর এই ফাঁকে মেহেরজানরে দিয়া এক নাঙ্গা পোঙ্খা পাক সেনার ল্যাওরা চোষাইয়া নেই। কী করি, দিলতো বাচ্চা হে জী।
মেহেরজান এক বনেদী মুসলমান পরিবারের মেয়ে। একাত্তরে সে ইন্ডিয়ান স্টাইলে লোকাট গোলাপী জামা কাপড় পড়ে ঘুইরা বেড়ায়। মাঝে মধ্যেই ক্লিবেজের ফাঁক দিয়া তার নাভিমূল দেখা যায়। এই দেইখা পাক সেনারা তাকে ধর্ষন করতে উদ্দত হলে এক বেলুচ সেনার বিবেকের দরজা বেহাট খুলে যায়। সেই মহান বেলুচসেনা তাকে ধর্ষনের থেকে বাঁচায়। যুদ্ধ করা ইস্তাফা দিয়া তারা প্রেম কইরা বেড়ায়। পাক সেনার পোষাক ছেড়ে ওয়াসিম (ওয়াসিম আকরাম নারে ভাই নায়কের নাম ওয়াসিম) সারাদিন নাঙ্গাপোঙ্গা থাকে।
মেহের জানের খালাত ভাই এক চুতিয়া মুক্তিযোদ্ধা, সেও মেহেরজানের হাঁ করে থাকা ক্লিভেজ দেখতে পায়। সেও যুদ্ধে ইস্তফা দিয়া মেহেরজানের বুকে ঠাই চায়। যুদ্ধের উত্তাপ বাদ দিয়া সে মেহেরজানের উঞ্চতা খোঁজে। ডায়লগ ঝাড়ে "আমি মরতে চাই
না বিয়া করতে চাই"। কিন্তু তার ল্যাওরার জোর কম, মেহেরজান ওয়াসিমে নিবেদিত। তাই ওয়াসিমরে সে খুন করতে চায়। ওয়াসিম পালায়া বাঁচে। মেহেরজানের ট্র্যাজেডি আমাদের
চোখে জল আনে, আমরা যুদ্ধে যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে যাই।
এই সিনেমার মূল পণ্য বিরঙ্গনা। তবে এই বীরঙ্গনা সাইড নায়িকা। এক মুক্তিযোদ্ধার লগে ওর প্রেম। মুক্তিযোদ্ধা ওরে ভোগ করতে চায়। হালার সব মুক্তিযোদ্ধারাই লুইচ্চার একশেষ। বীরঙ্গনা ডায়লগ ঝাড়ে "সব পুরুষই এক।" পাক সেনা আর মুক্তিযোদ্ধায় কোন পার্থক্য থাকে না। পুরুষের ভোগবাদীতা এইসব বাল ছাল যুদ্ধের থেকেও বড় হয়ে দেখা দেয়। এই সব যুদ্ধ টুদ্ধ আমাদের আর ভাল লাগেনা।
নায়িকার নানা শান্তিবাহীনির প্রধান। নিরেট ভালামানুষ। তারো এইসব যুদ্ধটুদ্ধের গ্যাঞ্জাম ভালা লাগেনা। মুক্তি বাহিনীর কমান্ডার তার কাছে তার এলাকায় যুদ্ধের অনুমতি চায়। সে বলে গ্যাঞ্জাম কইরো না। কমান্ডারের ল্যাওরায় ও জোর নাই। রাজাকারের অনুমতির অভাবে তারো যুদ্ধ করা হয় না।
এক পীরের নাতনি আমাদের এইসব গল্প বলে। সেই সিনামাটা বানাইছে। তার সাক্ষাতকার পড়ি আমরা পত্রিকায়। সে বলে তোমরা বড় বেশি আবেগি, যুদ্ধের দিকে নিরপেক্ষভাবে তাকাইতে পারো না। যুদ্ধের থেকেও ভালবাসা বড়,
মানবতা বড়। সে আমাদের বুঝায় ভারত পাকিস্থান বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে কুনু পার্থক্য নাই। পত্ত্রিকায় তার ছবি ছাপা হয়। সেখানে তার ক্লিবেজও বাইরায়া থাকে। সেই দিকে তাকাইতে তাকাইতে আমরা এই গুলাই বুঝি আর তার কাছ থেকে মানবতার পাঠ লই, যুদ্ধের দিকে নির্লিপ্ত
ভাবে তাকাইতে শিখি। আমরা বুঝি মুক্তিযোদ্ধা মানেই ভালো আর শান্তিবাহিনী, পাক সেনা মানেই খারাপ এইটা খারাপ ইতিহাস। তবু আমরা হালকা রেখায় বাইরে উঁকি দিতে থাকা তার ঈষত ভারি বুকের দিকে নির্লিপ্ত তাকাইতে শিখি না। আমরা ধজভঙ্গ বাঙালী হইলেও বুঝতে পারি এইগুলা আমাদের জন্য না। এর জন্য
সে পাকিস্থান থেকে সুদর্শন নায়ক আর ইন্ডিয়ান আর্টিস্ট ভাড়া করছে। আমাদের জন্য বরাদ্ধ খালি আধুরা থেকে যাওয়া পাকস্থানের স্বপ্ন আর ভারতীয় সংস্কৃতির চওড়া সোনা। তাই সম্বল কইরা আমরা বাথরুমে দৌড়াই। ধ্বজভঙ্গ হইলেও এইসব গ্লামার আর লীলাখেলা দেখে আমাদেরও কামাদ্রেক হয়, মেহেরজানরে লাগাইতে মনচায়।



